আপনাদের সহযাত্রী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়াই তাঁর অঙ্গীকার।

প্রার্থী, বরিশাল-০৪
আমরা বিশ্বাস করি যে প্রকৃত অগ্রগতি তখনই অর্জিত হয় যখন উন্নয়ন নৈতিকতার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং যখন সবচেয়ে দুর্বলদের কল্যাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ন্যায্য আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়নিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করা—যেখানে আইনের অপব্যবহার বন্ধ হবে, আইনের সামনে সবাই সমান থাকবে এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর ও নির্ভীক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে নৈতিক ও মূল্যবোধের সাথে একীভূত করা, যাতে একটি যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব তৈরি হয়।
একটি অর্থনীতি যা জনগণের সেবা করে। সুদবিহীন ঋণ সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সমর্থন এবং দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা।


প্রারম্ভিক জীবনঃ ১৯৬৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। তার পিতা মরহুম আবদুল হক ফকির এবং মাতা মরহুমা হালিমা বেগম। দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে মোহাম্মদ আবদুল জব্বার তৃতীয়।
শিক্ষা ও ক্যারিয়ারঃ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯৮১ সালে আহসানাবাদ রশিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা,চরমোনাই থেকে কৃতিত্বের সাথে দাখিল, ১৯৮৩ সালে আলিম এবং ১৯৮৫ সালে ফাজিল পাশ করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে ভোলা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভোলা সরকারী কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণঃ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার কিশোর বয়সেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি সমর্থক হওয়ার মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে কর্মী, সাথী ও সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি চরমোনাই মাদ্রাসার সভাপতি, ভোলা জেলা সভাপতি এবং বরিশাল শহর শাখার সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেন।
রাজনৈতিক জীবন ও জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণঃ ছাত্রজীবন শেষ করার পরে তিনি ১লা জানুয়ারী ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং সহযোগী সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের কর্মী হন এবং ১৩ই মে ১৯৯৫ সালে তিনি সংগঠনের রুকন(সদস্য) হিসেবে শপথ নেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল সদর থানার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল পূর্ব জেলার সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল পূর্ব জেলার নির্বাচিত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ত্ব পালন করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্দেশনায় ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি বরিশাল জেলার নির্বাচিত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
পারিবারিক জীবনঃ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯৯৬ সালে মোসাঃ রাবেয়া আক্তারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার বড় ছেলে মাস্টার্স ও ছোট ছেলে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। একমাত্র মেয়ে অনার্স ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত।
কর্মজীবনঃ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯৯৫ সালে বরিশাল সিটি কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং আজ অবধি কৃতিত্বের সহিত তিনি শিক্ষকতার গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বরিশাল সিটি কলেজের টি.আর. হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বঃ জননেতা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন খ্যাতিমান সমাজ সেবক এবং বলিষ্ঠ সংগঠক। একনজরে মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের কিছু অংশ দেখানো হলো।
▸ একটি মাদরাসা এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
▸ একাধিক মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা।
▸ কয়েকটি মাদ্রাসার গভর্নিং বডিতে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন।
▸ একটি ইয়াতিমখানার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
▸ আল ইখওয়ান মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানার ম্যানেজিং কমিটিতে দায়িত্ব পালন।
▸ কয়েকটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
▸ ভাইস চেয়ারম্যান, আল ফারুক সোসাইটি, বরিশাল।
▸ চেয়ারম্যান, আল ইসলাম ট্রাস্ট, মেহেন্দিগঞ্জ।
▸ প্রধান উপদেষ্টা, মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা উন্নয়ন ফোরাম, ঢাকা।
▸ প্রধান উপদেষ্টা, হিজলা শহীদ বাকিউল্লাহ স্মৃতি পাঠাগার।
▸ প্রধান উপদেষ্টা, উলানিয়া ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যান পরিষদ।
▸ প্রধান উপদেষ্টা, কাজিরহাট ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যান পরিষদ।
▸ বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য।
▸ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য।
পারিবারিক মূল্যবোধ, উচ্চশিক্ষা এবং নৈতিকতার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমানে বরিশাল-০৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ খবর